হঠাৎ বাঙালি বিদ্বেষ কেন? প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে
প্রদীপ দত্তরায়
সারাদেশে বিশেষ করে হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যে হঠাৎ করে বাঙালিদের সঙ্গে বৈষম্য মূলক আচরণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশী তকমা সেটে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের ধর পাকর করে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে গিয়ে পুষ ব্যাক করা হচ্ছে।
হঠাৎ করে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক এবং ও মানবিক পদক্ষেপ কেন করা হচ্ছে এ নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে।
দেশ স্বাধীন করার জন্য সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরালো যে জাতি তার প্রতি এই ধরনের বিদ্বেষ মূলক মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে। বিষয়টা যথেষ্ট উদ্বেগের।
দেশভাগের পর বাঙালিদের কোণঠাসা করে রাখতে অসমে বিদেশী বিতরণ আন্দোলনের নামে ভারতীয় বাঙালিদের যথেষ্ট হেনস্থা করা হয়েছে।
নেলি- গহপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এর জ্বলন্ত প্রমাণ। অসমে এনআরসি নবায়নের নামে যে বৈষম্যের রাজনীতি হয়েছে এর কোন তুলনা মেলা ভার।
৩৮ লক্ষ লোককে এনআরসির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক।
বর্তমানে গুজরাট, ওড়িশা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি উৎখাতের নামে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করা শুরু হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় কথা বলছেন বলেই তাদের বাংলাদেশী বলে তোপ দেগে দেওয়া হচ্ছে।
অথচ এটা কারো অজানা নয় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাঙালিদের বসতি রয়েছে ত্রিপুরা, অসম, ঝাড়খন্ড, ছত্রিশগড়, উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, আন্দামান সহ বিভিন্ন রাজ্যে।
বাঙালিরা কর্মঠ জাতি হিসেবে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নানা ধরনের উৎপাদনমুখী কর্মে যুক্ত। গুজরাটের সুরাতে ঘিরে এবং সোনার অলংকার প্রস্তুত শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সিংহভাগই বাঙালি।
কাপড় কোম্পানিতে ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বাঙালিরা নিযুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক এবং সিকিউরিটি গার্ডের কাজে দরিদ্র বাঙালিরা যুক্ত রয়েছে।
এদের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে রনংদেহি রূপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকার জেগে উঠলো কেন, এর অন্তর্নিহিত কারণ কি প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।





