গণআওয়াজ, গৌহাটি : অ্যাডভান্টেজ আসাম ২.০ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সাবমিট ২০২৫ এর দ্বিতীয় সংস্করণ শুরু হল মঙ্গলবার।
এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে অ্যাডভান্টেজ আসাম ২.০ সম্মেলন শুরু হয়।
সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররা সহ উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
অ্যাডভান্টেজ আসাম ২.০ প্রোগ্রামে উপস্থিত উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে অ্যাডভান্টেজ আসাম শীর্ষ সম্মেলন প্রথম ২০১৮ সালের ৩ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়।
সেই সময়, ২৬ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় নুমালিগড় রিফাইনারি ৯০ লক্ষ মেট্রিক টনে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল।
প্যারাডাইস থেকে নুমালিগড় পর্যন্ত একটি অপরিশোধিত পাইপলাইনও রয়েছে, যা ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। একই সময়ে টাটা আসামে সেমিকন্ডাক্টর চালু করে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় বাজেটে নামরূপে একটি গ্রিনফিল্ড সার কারখানার ঘোষণা করেছেন।
আসামের শিল্পায়ন নিয়ে বলেন, আজ আসামে টেকসই শিল্পের ২০০তম বার্ষিকী। গত চার দশকে আসাম অনেক দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছে।
২০১৪ সালের পর আসামের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনি আসামের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আসামে শান্তি ফিরে এসেছে, একসময় দেশের সবচেয়ে অস্থির রাজ্য ছিল আসাম।
আসামে ২০১৪ সালের পর ২৩২৪ কিমি জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, ৬০০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ ব্রডগেজে এবং ২০০ কিলোমিটার রেলপথ ডাবল ট্র্যাকে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ সালে আসামের জিডিপি ছিল ২৯ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালে জিডিপি ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে।
এক দশকে আসামের জিডিপি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছর আসামের জিডিপি ১৫.২ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, আসামের অর্থনীতি হবে ১৪৩ বিলিয়ন ডলারের, টাটা আমাদের রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর চালু করেছে, পেপসি এবং ক্যাম্পা কোলার মতো ব্র্যান্ড এসেছে।
হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলি শিল্প শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভারতীয় উদ্যোক্তাদের অ্যাডভান্টেজ আসামের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উত্তরপূর্ব ভারতের উন্নয়নের স্বপ্নে যোগদানের জন্য জনগণকে আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই বক্তব্য রাজ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে রাজ্যে কংগ্রেস শাসনে তিনিও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মন্ত্রী ছিলেন এবং উন্নয়ের জয়গান করেছিলেন, তাহলে কি সেগুলো পুরোটাই মিথ্যে ছিল?