আসছেন বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড০ শরদিন্দু ভট্টাচার্য
জুলি দাস
করিমগঞ্জ, ৯ফেব্রুয়ারি : ১৭ বছর বিরতির পর বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের লঙ্গাই-মাইজগ্রাম-কর্ণমধু আঞ্চলিক সমিতির উদ্যোগে ফের অনুষ্ঠিত হচ্ছে লোক উৎসব।
আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসব হবে লঙ্গাইঘাট এলাকায়, এ নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। মন্ডপ নির্মাণ করার কাজ চলছে, বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার লাগানো হয়েছে।
দুই দিনের লোক উৎসবকে সফল এবং সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলতে বুধবার উৎসবস্থল প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে করিমগঞ্জবাসির সহযোগিতা কামনা করেছেন লঙ্গাই-মাইজগ্রাম-কর্ণমধু আঞ্চলিক সমিতির কর্মকর্তারা।
আঞ্চলিক সমিতির মুখ্য উপদেষ্টা তথা শহর সমিতির সভাপতি সৌমিত্র পাল বলেছেন, ২০০৬ সালে সর্বশেষ লোক উৎসবের আয়োজন করেছিল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।
এরপর আর আয়োজন করা হয়নি। ১৭ বছর পর লোক উৎসব আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।
তবে ১৭ বছর আগে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই প্রয়াত, এরমধ্যে প্রয়াত শ্যামলেন্দু চক্রবর্তী, তরুণ দাস, নৃপতিরঞ্জন চৌধুরী, রথীন্দ্র ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
সৌমিত্র পাল আরো বলেছেন, এতদঞ্চলের সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত তারা অন্য জায়গা থেকে সংস্কৃতি ধার করে নিয়ে আসেন এখানে।
কলকাতা, বাংলাদেশের শিল্পীরা অনেক অর্থ উপার্জন, সুনাম অর্জন করেছেন, অথচ আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি লুপ্ত হওয়ার পথে।
মূলত লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতিকে উত্তরণ এবং পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে লোক উৎসবের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জারি গান, সারি গান, ভাওয়াইয়া গান, কবির লড়াই, পদ্মপুরাণ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকবে।
আঞ্চলিক সমিতির সম্পাদক বিভাসচন্দ্র দাস লোক উৎসবের বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় লোক উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট লোক সংস্কৃতি গবেষক ও লেখক ড. অমলেন্দু ভট্টাচার্য।
বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে লোক নৃত্য ও লোক সংগীতের অনুষ্ঠান থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে শুরু হবে লোক নৃত্য ও লোক সংগীতের অনুষ্ঠান।
রাত ৮ টায় আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করবেন তাহেরা বেগম লস্কর।
লোক উৎসবকে সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত করার জন্য সকলকে উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আঞ্চলিক সমিতির সম্পাদক।
দুই দিনের উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তুলে ধরেন আঞ্চলিক সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা সোনালী গোস্বামী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক সমিতির সভাপতি বিষান দাস, উপ সভাপতি সনময় ভট্টাচার্য।